

এক বোন আসলেন তার ভাইকে নিয়ে। তার লাইফ হিস্টোরি শুনালেন। আমি অনেকটা শকড। তিনি তার সমস্যার জন্য হাসবেন্ডকে ছেড়েছেন—১০ বছর হতে চলল। এক বাচ্চা নিয়ে তার দিনকাল চলে যাচ্ছে। স্বামীও এখনো অবিবাহিত।
ঘটনাটা বলি—
আপুর স্বামীর সাথে খুব ভালো গিয়েছে প্রথম সময়টা। সে অনেক ঝগড়া করলেও স্বামী মেনে নিত। ঠাণ্ডা স্বভাবের ছিলো। এদিক আপুর মাথা গরম থাকা ছোটকালের স্বভাব। অল্পতেই বিগড়ে যাওয়াতে পরিবারে প্রশিদ্ধি তার। এমন স্ত্রীর সাথে থেকে বাচ্চাও নিলেন। সংসার টিকিয়ে চলতে থাকলেন নম্রতার সাথে।
বছর দুয়েক পর ধীরে ধীরে পরিবর্তন লক্ষ্য করছিলেন তার স্বামীর মাঝে। সবার সাথে ভালো থাকলেও তার সাথে খুব রাগারাগি করেন। একটা সময় গিয়ে উভয়ের ঝগড়া জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এবার আর সামলে রাখতে পারেননি, গায়ে হাতাহাতি পর্যন্ত হয়ে যায়। এই ঘটনার সূত্র ধরে বিচ্ছেদ ঘটান বোনটা। সে অবস্থায় আজ দশ বছর পার হচ্ছে।
স্বাভাবিক দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে, এখানে দোষ স্বামীর বা উভয়ের হলেও স্বামীর বেশি। আমি দোষারোপ না করেই বলব, সমস্যাটা কেয়ার না করার ফলে এমন হয়েছে। বোনটা আগ থেকেই টের পেয়েছে তার জিন কেন্দ্রিক সমস্যা হয়েছে। তার সাথে বিয়ের পর হাসবেন্ডকেও ডিস্টার্ব শুরু করে। তাহলে কী দাঁড়ালো? এই বোনের কারণেই তার স্বামীর সমস্যা হয়েছে। তার জিন-ই চেয়েছে সম্পর্ক নষ্ট করতে।
যাই হোক, ওই বোনকে অনেক বুঝালাম সম্পর্কটা ঠিক করে নেয়ার জন্য। তার মাথায় এতটাই প্রভাব জাদুর, এসব ভাবতেই যেন বিষ ছড়িয়ে যাচ্ছিল শরীরে। উনার ভাইয়ের সাথেও কথা বলে বুঝালাম। সবই বুঝলেন, দিনশেষে নত হতে চাচ্ছেন না হয়তো। এভাবেই আমরা নিজের জন্য কোনো কিছু হারিয়ে অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি। ইগোর নাম করে সংসার জীবনটাকে অগুরুত্ব দিয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি সামাজিকতাকে—যার হাত ধরে বেড়ে চলছে ডিভোর্স কেসের সংখ্যা।
ওই বোনের তো অন্যান্য সমস্যা ইম্প্রুভ হয়েছে। তার সন্তানের যেসব সমস্যা ছিলো তা-ও পরিবর্তন হয়েছে। দোয়া করুন, আল্লাহ তায়ালা যেন সম্পর্কের এই সমস্যাও দূর করেন। আমাদের সবার সংসারে সুকুন লাইফ দান করেন।
— উস্তাজ ইবনে ইসহাক
(সিনিয়র রুকইয়াহ কনসাল্টেন্ট)