

কথা বলতে পারে না পুরো এক মাস। ডাক্তার, পরীক্ষানিরীক্ষা কোনোটা বাকি নাই; সব করা হলে সমাধান দূরে থাক, সমস্যাই ধরা পরছে না। পরে রুকইয়াহ করা হলে দেখা যায় জিন উপস্থিত, কণ্ঠে ক্ষতি করে বসে আছে। জিনের সমস্যা দূর হতেই দেখা যায় একটু আগে যে মেয়েটা কথা বলছিল ইশারা করে এবং কীবোর্ড চেপে সমস্যার কথা বলছিল, সে স্পষ্ট ভাষায় সুন্দরভাবেই আগের মতো কথা বলছে কোরআনের আয়াত ও রুকইয়া'র উসিলায়। আলহামদুলিল্লাহ।
আমাদের সমাজে প্রচলিত বোবা জিন বলতে বুঝায় যে জিন রাতে ঘুমে চেপে ধরে। বাস্তবতা হলো, এটা জিনের সিফত না বরং তার কাজ। সাধারণত সকল জিনই এই কাজ করতে পারে। এছাড়াও স্লিপিং প্যারালাইজড হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে দুর্বলতা ও শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার জন্য। আসলে বোবা জিন হলো সে, যে জিন মানুষের মতো কথা বলতে পারে না। ইশারার মাধ্যমে কথা বলে।
এমনি এক জিনের আক্রমণ স্বীকার হয়েছেন একজন প্রসিদ্ধ লেখক ও আলিমের সন্তান। মাদরাসায় ভালোভাবে পড়তে দেয়নি গতবছর। গেলেই সমস্যা বাড়িয়ে দিত। বাবা বাধ্য হয়ে গ্রামে নিয়ে আসেন। পাশে এক মাদরাসাত ভর্তি করেন। এদিকে বিয়ের প্রস্তাব আসা শুরু করলে জিন বশিকরণের জাদু করতে থাকে। সবিশেষ তাকে বোবা বানিয়ে ফেলে। কথা অল্প হতে হতে পুরোপুরি অস্পষ্ট হয়ে আসে। কিছুই বুঝে আসে না উনাদের।
আমাকে জানালে কিছু আমল দিয়েছিলাম৷ শারীরিক সমস্যার সম্ভাবনা থাকায় তেমন গুরুত্ব দিয়ে আমল করতে পারেনি৷ এরমধ্যে কিছু পরীক্ষানিরীক্ষা করে জানতে পারে কোন সমস্যা নাই৷ তারপরও একটা চূড়ান্ত পরীক্ষা বাকি রেখেছে, বললাম সেটাও করে ফেলেন তারপর রুকইয়াহ। ওই আলিম বলছিলেন, আমার দৃঢ় ইয়াকিন এটা এজাতীয় কিছু আপনি রুকইয়াহ করুন৷ আমি বললাম, টেস্ট করেন। গলায় কোন সমস্যা থাকলে রুকইয়াহ সময়ে বরং ক্ষতি বাড়বে। ওই স্থান স্পর্শকাতর থাকবে তাই ঠিকভাবে কিছু করানো যাবে না।
সবিশেষ ওই টেস্ট রিপোর্টও স্বাভাবিক। একমাস কী কারণে বোবা হয়ে আছে মেয়ে, কেন কথা বলতে পারছে না—কেউ বলতে পারছে না। সব প্রফেসর রেফার করছে একে অন্যের কাছে। আমরা রুকইয়াহ করার জন্য উপস্থিত। তাকে ফর্ম ফিলাপ করানোর পর সব জিজ্ঞাসার জবাব, ইশারায় দিচ্ছে। রুকইয়াহ শুরুতে ইফেক্ট জিজ্ঞেস করলেও ইশারায় কথা বলছে সে। বুঝিনি পরে কীবোর্ড দিয়ে বুঝিয়েছে। বিষয়টা আমার নিকট খুবই সেন্সিটিভ মনে হলো। খুব বেশি পুশ করে জিনকে কষ্ট দেয়ার নিয়তে রুকইয়াহ শুরু করলাম।
রুকইয়াহ'র একটা সময় মোচড়ামুচড়ি শুরু হয়। ঘুমিয়ে পরে। রোগী সেন্সলেস হয়ে আসে৷ একসময় হাত পা ছাড়াতে আপ্রাণ চেষ্টা। নাকে আতর দিলাম, তার কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় যুদ্ধ। ছোটাছুটি শুরু করে। হাত পা ছড়াছড়ি করতে থাকে। বোবার মতো গোঙ্গাতে থাকে। কথা বলতে পারছে না, একটু পরপর চলে যায়৷ আবার আতর দিলে আবার আসে। সে কিছু বলতে পারে না। সবিশেষ ছেড়ে দেয়া হয় দীর্ঘ রুকইয়াহ'র পর। পানি ছিটিয়ে দিলে রোগীর কন্ট্রোল আসে। জিজ্ঞেস করলাম কথা বলতে পারেন? মাথা নাড়িয়ে বললেন জি! আলহামদুলিল্লাহ। তার বাবা পাশে বসা। তিনি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন। বলল, জি কথা বলতে পারতেছি। আলহামদুলিল্লাহ! ছুম্মা আলহামদুলিল্লাহ।
এভাবে জিন শয়তান মানুষের শ্রবণ, দৃষ্টি, ঘ্রাণ ও স্বাদ শক্তিও নষ্ট করে ফেলে। এমন ঘটনার সাক্ষী আমরা অনেকবার হয়েছি রুকইয়াহ সেন্টারে। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে সহিহ বুঝ দান করুন৷ কোরআনের মুজিযা বুঝার তাউফিক দিন, আমিন।
শিক্ষণীয়:
১- এজাতীয় শারীরিক সেন্সিটিভ সমস্যা দেখা দিলে রুকইয়াহ করা যেতে পারে। তবে শক্তভাবে সরাসরি রুকইয়াহ করার আগে অবশ্যই চেকআপ করে নেয়া উচিত। অন্যথায় সমস্যার স্থানে প্রেশারাইজড করার ফলে আরো বেশি ক্ষতি হবে।
২-জিনদের মধ্যেও বিভিন্নরকম প্রতিবন্ধী আছে। তাদের নিজস্ব গুণের মতো করে রোগীর পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করে। তাই সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।
৩- আতর বা সুঘ্রাণ মানুষের পজিটিভ এনার্জি বুস্ট করে এবং নেগেটিভ বিষয় দূর করে। এরদরুন যারা শয়তান তাদের আতরে অনেক কষ্ট হয়। আতরের ব্যবহার রুকইয়াহ ও জিন কেন্দ্রিক সমস্যা দূর করতে কার্যকরী মাধ্যম।