

যেভাবে জাদুর জিনিস বা তাবিজ নষ্ট করবেন
পরিপূর্ণ, দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সুস্থ হওয়ার জন্য সেলফ আমলের পাশাপাশি ঘর-বাড়ি, উঠান-আঙিনা, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান থেকে তাবিজ বা জাদুর উপকরণ উত্তোলন, নষ্ট ও নিষ্ক্রিয় করা অবশ্য কর্তব্য। কোনো কিছু পাওয়া গেলে শুধুমাত্র ফেলে দেওয়া, পুড়িয়ে ফেলা সমাধান নয়; নির্দিষ্ট নিয়মে নষ্ট না করলে নিজের বা অন্যের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
তাবিজ বা কোনো জাদুর উপকরণ পাওয়া গেলে সেটা নষ্ট করার জন্য প্রথমে সেগুলো কোনো পাত্রে পানি নিন। তারপর সেই পানিতে সিহরের আয়াতগুলো পড়ে ফুঁ দিন।
সিহরের আয়াতগুলো হলো—
সূরা আরাফ (১১৭-১২২)
وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ ﴿١١٧﴾
فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿١١٨﴾
فَغُلِبُوا هُنَالِكَ وَانْقَلَبُوا صَاغِرِينَ ﴿١١٩﴾
وَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ ﴿١٢٠﴾
قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿١٢١﴾ رَبِّ مُوسَى وَهَارُونَ ﴿١٢٢﴾
সূরা ইউনুস (৮১-৮২)
فَلَمَّا أَلْقَوْا قَالَ مُوسَى مَا جِئْتُمْ بِهِ السِّحْرُ إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُ إِنَّ اللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ ﴿٨١﴾
وَيُحِقُّ اللَّهُ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ ﴿٨٢﴾
সূরা তহা (৬৯)
وَأَلْقِ مَا فِي يَمِينِكَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوا إِنَّمَا صَنَعُوا كَيْدُ سَاحِرٍ وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى ﴿٦٩﴾
এরপর সূরা ফালাক ৩ বার, সূরা নাস ৩ বার পড়ে ফুঁ দিন। তারপর জাদুর উপকরণগুলো খুলে আলাদা আলাদা করে ভালভাবে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। ইনশাআল্লাহ জাদু নষ্ট হয়ে যাবে। এরপর মানুষের আনাগোনা নেই এমন জায়গায় ফেলে দিন।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখবেন
তাবিজ, পুতুল, কাগজ বা জাদুকরের দেওয়া যেকোনো উপকরণ পড়া পানিতে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখতে হবে। যদি কাগজে কিছু লেখা থাকে, তবে পানির মধ্যেই মুছে ফেলার চেষ্টা করবেন। লেখা মুছে যাওয়ার পর কাগজটি ছিঁড়ে ছোট ছোট অনেকগুলো টুকরো করে নেবেন। এরপর সেগুলো শুকিয়ে বা কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে ফেলবেন। তবে সতর্ক থাকবেন, পোড়ানোর সময় যেন সেই ধোঁয়া কোনোভাবেই আপনার নিঃশ্বাসের ভেতরে না যায়।
তাবিজ ধরার আগে খালি হাতে না ধরে গ্লাভস বা পলিথিন পরে নেবেন, অথবা পড়া তেল হাতে মেখে নেবেন। তাবিজ ধরা থেকে শুরু করে নষ্ট করা; পুরোটা সময় মুখে বারবার সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়তে থাকবেন।
তামা বা অন্য ধাতুর তাবিজ বা আংটিতে খোদাই করা লেখা থাকলে তবে তা ঘষে বা পুড়িয়ে যেভাবে হোক মুছে ফেলতে হবে; নিজে না পারলে প্রয়োজনে কোনো স্বর্ণকারের সাহায্য নিতে পারেন।
তাবিজে গিট থাকলে সেগুলো সাবধানে খুলে ফেলবেন। পুতুল, মূর্তি বা মাছের মতো কিছু পাওয়া গেলে এবং তাতে পিন ফুটানো থাকলে, পিনগুলো খুলে পানিতে ডুবিয়ে রাখবেন।
ইদানীং অনেক সময় জ্যান্ত পাখির শরীরেও তাবিজ বা পিন গেঁথে দেওয়া হয়, এমন কিছু দেখলে ডানার নিচে বা শরীরের সব জায়গায় ভালো করে খুঁজে সবকিছু খুলে নেবেন, তারপর পড়া পানি দিয়ে পাখিটিকে ভিজিয়ে ছেড়ে দেবেন। তাবিজের খোলস, ভাঙ্গা টুকরা কিংবা জাদুকরের দেওয়া তেল ও পানি পড়া, যাই থাকুক না কেন, সবই সেই পড়া পানিতে ঢেলে দেবেন।
বাসার দেয়াল, ফ্লোর বা অন্য কোথাও তাবিজ আঁকা থাকলে ঘষে মুছে সেখানে পড়া পানি ছিটিয়ে দিন। বাসা তৈরির সময় কোণায় রাখা তাবিজ যদি উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তবে টানা তিন দিন পড়া পানি ছিটিয়ে দিবেন আর দোয়া করবেন আল্লাহ তাআলা যেন তাবিজের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেন।
জ্যোতিষীর দেওয়া কোনো আংটি থাকলে তা পড়া পানিতে ডুবিয়ে রেখে পাথরটি ভেঙে ফেলে দেবেন। জ্যোতিষীদের বিশ্বাস পাথরের ক্ষমতা আছে। তাই কোনোমতেই এই পাথর রেখে দেওয়া যাবে না।
নষ্ট করা তাবিজ, ছাই বা ব্যবহৃত পানি কখনো প্রাত্যহিক ময়লা বা খাবারের সাথে ফেলবেন না; এমন নির্জন স্থান বেছে নেবেন যেখানে মানুষের যাতায়াত নেই।
রাস্তায়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে, বাড়ির আশপাশে, ফুলের টবে কিংবা অন্য যে কোনো স্থানে তাবিজ পোঁতা বা রাখা আছে বলে সন্দেহ হলে, উক্ত আয়াতগুলো দিয়ে পড়া তৈরি পড়া পানি টানা তিন দিন সেখানে ছিটিয়ে বা ঢেলে দিতে হবে। এমনকি নির্দিষ্ট কোনো স্থানে জাদুর কোনো উপকরণ রাখা আছে বলে স্বপ্নে দেখার পর যদি সেখানে খুঁজেও না পান, তাহলেও ঠিক একইভাবে টানা তিন দিন পড়া পানি ছিটানোর নিয়ম মেনে চলবেন।
আর আপনি যদি আগে কখনো নিজে তাবিজ ব্যবহার করে থাকেন, তবে সেটাও এই নিয়মে নষ্ট করে মন থেকে অনুশোচনা প্রকাশ করে তাওবা করে নেবেন।