

Published on: October 19, 2025Written by: উস্তাজ ইবনে ইসহাক
পেশেন্ট হলেন প্রথম স্ত্রী। এসেছেন তার হাসবেন্ডকে নিয়ে। দ্বিতীয় তা°লাক চলমান। ভ°য়ংকর ঘটনা। বিয়ের দিন থেকে স্ত্রীর রা°গারা°গি শুরু, দ্বিতীয় দিনেই তা°লাক চেয়ে বসেছে। লাভ ম্যারেজে এমন ঘটনায় অবাক হয় স্বামী। যখন বুঝতে পারে শারীরিকভাবে স্বামী ফিট না তখন আরো বেশি সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
প্রথম দিন থেকে অভিযোগের পর অভিযোগ চলতে থাকে। হাসবেন্ড জানে, সে অ°ক্ষম না। কিন্তু অপারগতা প্রকাশ পায় তার স্ত্রীর সামনে গেলে। গোনাহ করতে সমস্যা হয় না। অন্য নারীর প্রতিও তার ঝোঁক কাজ করে। কিন্তু স্ত্রীর সাথে বিছানায় অপারগতা কেন? এই বিষয় তার মাথায় ধরে না।
ওয়াসওয়াসা চলতে থাকে মনে। সে ধারাবাহিকতায় শারীরিক সম্পর্কে চাহিদা না মিটাতে পেরে এক বছর পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন স্বামী। প্রথম থেকেই দ্বিতীয় সংসারে খুব সুন্দর চলছে সম্পর্ক। শারীরিকভাবে সুখি দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছে। প্রথম সংসারে এখনো একই অবস্থা! অবনতিই রয়েই গেছে। অক্ষমতাও ঠিক আগের মতো।
এসবের কারণ খুঁজতে গিয়ে বের হলো, প্রথম স্ত্রীর নানা বাড়ি ফ্যামিলিতে সাক্সেসফুল মেরিজ লাইফের উদাহরণ নাই বললে চলে। সবার সংসারে বড়সড় ঝামেলা লেগে আছে। কমবেশি জি*ন জা*দুর সমস্যা সবার সাথে ঘটছে। প্রথম সংসারে শ্বশুর-শ্বাশুড়ির সম্পর্কও দা-কুমড়া। এমন পরিবারে তাদের ঘটনাটাও কমন বিষয় হয়ে গিয়েছে। কেউ পাত্তা দেয় না। কিন্তু এই ছেলের জন্য কখনোই স্বাভাবিক ছিলো না। বাসায় উশৃংখল মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ, পাড়াপড়শি জেনে ফেলা; সহজে অনেক পুরুষ সাধারণত মেনে নিবে না। এদিকে বোনটাও অপারগ। সে না চাইতেও ঝামেলা করে, উচ্চবাচ্য করে, ভাঙচুর করে; তার মানসিক কন্ট্রোল নাই বললে চলে- এটা স্বয়ং তার কথা।
রুকইয়াহ শুরু হলো। জিন উপস্থিত। দীর্ঘ সময় চলল। ধারাবাহিকতার সাথে জবানবন্দি দেয়া শুরু করল। জিন বলছে—" স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের ব্যাপারে অনেক কান পড়া দিত৷ এদিকে স্ত্রীকে ওয়াসওয়াসা দিত যেন স্বামীকে সন্দেহ করে৷ দুই-এর মিলনে সংসার খারাপ হয় এবং দ্বিতীয় বিয়ের ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলে। সে বিয়ের পরও মেয়ে জানেনা প্রায় ৬ মাস৷ একদিন স্বপ্ন দেখাল, হাসবেন্ড এক মেয়ের সাথে চ্যাট করছে৷ যা আলাপ হচ্ছে সব সে স্বপ্নে দেখল। সকাল হলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে ফোন ওপেন করলে সব বাস্তবে দেখতে পেল। সেদিন থেকেই তার সফলতার শুরু....। আমায় বলছে, "তুই দেখি কিভাবে এই সংসার রাখিস৷ এই মেয়ে জীবনেও আর সংসার করবে না৷ ছেলেও তার দ্বিতীয় বউ ছাড়বে না।" আমি বললাম, সংসার আল্লাহ তায়ালা রাখবে৷ তুই বের হয়ে চলে যাবি৷ এটাই শেষ কথা। অনেক্ষণ মোড়ামুড়ি করে বের হয়ে গেল। জানিনা...!
এখান থেকে একটা বিষয়:
এমন অনেক সংসার আছে যাদের শারীরিক সম্পর্কে চাহিদা নাই বা খারাপ গেলেই একে অপরের উপর চাপিয়ে গা বাচানোর চেষ্টা করে। আমার মনে হয় না, প্রথম স্ত্রী তার শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে টিপ্পনী না কাটলে বা খারাপ আচরণ না করলেও এই ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করে ফেলত। বরং তার থেকে খোলা তালাক চাওয়ার পরেও ছেলে চাচ্ছে তার স্ত্রী সুস্থ হোক এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকুক।
সবিশেষ বোনের রুক*ইয়াহ ও কন্সাল্টেন্সির পর বুঝ এসেছে। এখন তিনি নিজেই পরিপূর্ণ সুস্থতা চাচ্ছেন। দ্বিতীয় তা°লাক চলমান ছিলো। সেটাও আপাতত ফিরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম। আল্লাহ তায়ালা ভাইদের সম্পর্ক সুন্দর করে দিন। উভয় সংসারে ইনসাফের তাউফিক দিন। আমিন।