

Published on: October 13, 2025Written by: উস্তাজ ইবনে ইসহাক
আজ একজন পুরুষ রোগী এসেছেন। নিজের জীবনে অনেক অ'সফলতা উনার। জীবনভর একটার পর একটা ঝামেলা। রুক'ইয়াহ শুরু করতে প্রথম ত্রিশ মিনিট স্বাভাবিক। হঠাৎ হাসফাস করতে করতে জি'ন উপস্থিত। চেয়ারসহ পিছনে চলে যাচ্ছে। পরিবার সব সদস্য ভয়ে দৌড় দেয়ার অবস্থা৷ আমি গিয়ে পয়েন্ট অনুযায়ী ধরে থামালাম, নাহয় তো চেয়ার ভে'ঙে ফেলবে এমন ভাবসাব তার।
এই ভাই প্রথম এসেছিলেন তার খালুকে নিয়ে৷ খালাসহ উনারা লন্ডনে থাকেন, আমাদের পুরাতন পেশেন্ট৷ আমি ব্যক্তিগতভাবে উনার নানা বাড়ির চিকিৎসা এই পর্যন্ত কয়েকজনের করেছি। মামা ভালো হলে খালাকে নিয়ে আসে, এভাবে পর্যায়ক্রমে কয়েকজন করেছেন। শুরু থেকে স'ন্দেহ থাকায় ওই দিন জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনার কোন সমস্যা নাই তো? সে বলছে, আগে ছিলো এখন তেমন নাই। মাঝেমধ্যে একটু আধটু স্বপ্ন দেখি। সময় না থাকায় রুক'ইয়াহ শুরু করি। খালুর চেয়ে উনার বেশি ইফেক্ট হচ্ছিল। শরীরে জি'ন থাকার বা যাওয়া আসার আলামত প্রকাশ পাচ্ছিল। রুক'ইয়াহ'র পরে উনার পরিবার ব্যাপারে জিজ্ঞাস করে জানি, মায়ের জি'নের আসর ছিলো। বড় ভাইয়ের বিয়ে নিয়ে ঝা'মেলা ছিলো। উনি অনেক সাফার করেছে এগুলো। এক হুজুর বলেছে উনি নাকি তার সাথে থাকা পরী জিন সরিয়ে দিয়েছে, এখন আর স'মস্যা নাই। আমি কিছু আমল দিয়ে বললাম ওসব ভাও'তাবাজি কথা শুনে লাভ নাই৷ আপনি পরিবার নিয়ে আসতে পারেন।
আজ আসল গোটা ফ্যামিলি নিয়ে। সবাইকে জিজ্ঞাসা করে বুঝলাম, মায়ের বাড়ি দিকের ঝা'মেলা তীব্রভাবে আ'ঘাত করেছে এই পরিবারকে। উনাদের চিন্তা সাত সালে লাস্ট এসেছে তাই ওই জি'ন চলে গেছে, এখন আর আসবে না। উনার মা ভালো হয়ে গেছেন। আমি বললাম, তাহলে এইযে শরীর ব্যথা ও চিকিৎসা করে কাজ না হওয়া এগুলোও কি স্বাভাবিক বিষয়? মাথা নেড়ে না করল তারা। রুক'ইয়াহ সম্পর্কে বুঝানোর পর সবাইকে বসালাম। বললাম, আপনাদের সবার জি'নের ন'জর লক্ষণ আছে। এটা আপনাদের কারো শরীরে থেকে এমন করে নাকি দূর থেকে অন্যকারো শরীরে বসে করে সেটা আ'ল্লাহ তায়ালা জানেন। আমরা নিয়ত করব এই গায়ব যেন আলিমুল গায়ব প্রকাশ করেন এবং সুস্থ করে দেন।
রুক'ইয়াহ শুরু করলাম, উপরোল্লিখিত পরিস্থিতির স্বীকার হলাম। তারপর এভাবেই আরো চারবার হলো। একটু উঠে, পয়েন্ট অনুযায়ী ধরলে চলে যায়। তবে মাঝে একবার মারাত্মক এগ্রেসিভ হয়ে গেলে সবাই মিলে ধরে শুইয়ে দিয়ে রুক'ইয়াহ করতে হয়। সবশেষে অজু করে রিল্যাক্স হলে বাসায় আমল দেয়া হয়। এখন বাসায় গিয়ে সবাই মিলে এটাকে ক'ষ্ট দিয়ে সি'হর, উকদ এবং নজরগুলো ন'ষ্ট করলেই মূলত সমাধান হবে। অন্যথায় সে আগের মতোই প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই সম'স্যা চলতে থাকবে হয়তো—আ'ল্লাহু আলাম।
শিক্ষণীয়:
১. পুরুষেরও ভালো পর্যায়ের জি'নের সমস্যা হতে পারে। বরং পুরুষের জি'ন তার হর'মোনের পরিপূর্ণ ব্যবহার করতে পারায় অভিজ্ঞতা আরো বেশি ভয়ংকর হয়। এজন্য পেশেন্ট এর শরীর অনুযায়ী সেন্টারে বা বাসায় লোকবল রাখা উচিত।
২. জি'নের সম'স্যা সামনে না প্রকাশ পেলে ঠিক হয়ে গেছে, এমন ধারণা ভু'ল। যেমন তাদের এই ভু'লের মাশুলে, ছোট ছেলে হাফেজ হতে পারল না, বড় ছেলের বিয়ে আ'টকে ছিলো, মেজো ছেলের ব্যবসা ও পড়াশোনায় ব্যাপক ঝা'মেলা চলছিল।
৩. পারিবারিক জি'নের নজরের লক্ষণ দেখলে সবাইকে মিলে রুকইয়াহ করতে হয় ক্লিয়ার হওয়ার জন্য। এই পেশেন্টের মা বা অন্য ভাই আসলে তো এরকম ক্লিয়ার হওয়া যেত না, সেসহ থাকায় যেটা হয়েছে। আবার বাসায় অন্য কোন বডিতে যাওয়ার মতো থাকলে সেখানেই বসে থাকত, এখানে আর আসত না- যেমনটা প্রথমবার করেছিল। এখন সবাইকে একসাথে করায় যাওয়ার কোন জায়গা পেল না। এখানে থেকেই ক'ষ্ট পেয়ে নিজের বাস্তব রূপ প্রকাশ করতে বাধ্য হলো।
৪. মায়ের জি'ন ছেলের কাছেও যায় বোন না থাকলে। এটা গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।