

পরিবার পছন্দের পর অনেক নাটকীয়তা কেটে বিয়ে হয় মাহবুব সাহেবের। খুব সুন্দরই কাটছিল শুরুর দিনগুলো। মাস দুয়েক পর ভুল বোঝাবুঝি শুরু হলো। স্ত্রীর সন্দেহপ্রবণতা, এদিকে মাহবুব সাহেবের অল্পতেই মাথা গরম হয়ে যাওয়া—এই দুই সমস্যা মিলে সূত্রপাত। দিন দিন খারাপ হতে থাকল পরিস্থিতি। একদিন হাতাহাতি পর্যন্ত হয়ে যায়; জানতে পারে পরিবার ও পাড়াপড়শি।
বিস্তারিত শুনে মিসেস মাহবুবকে পাশের বাসার ভাবি খোঁজ দেন “রুকইয়াহ”-এর। জানান, তাদের এমন অনেক পারিবারিক সমস্যা ছিল, সেল্ফ রুকইয়া করে ইমপ্রুভ হয়েছে। পরবর্তীতে সেন্টারে গিয়ে রুকইয়া করে আলহামদুলিল্লাহ এখন ভালো আছে। শুনে তিনিও শুরু করলেন সেল্ফ রুকইয়া। জানলেন রুকইয়াহ কী ও কিভাবে কাজ হয়। রুকইয়াহ শুরু করার কিছুদিন পর দেখেন সমস্যা বাড়ে-কমে। নতুন নতুন কিছু বিষয় দেখতে পাচ্ছেন প্যারানরমাল—যা পূর্বে কখনো নোটিস করেননি।
উল্লেখিত পূর্ব ঘটনা বলতে বলতে অনেকটা হাপিয়ে যান মিসেস মাহবুব। আমরা তো আন্দাজ করে নিলাম এর মধ্যেই। পরামর্শ দিলাম সরাসরি রুকইয়া করতে। কোরআনের আয়াত ও হাদিসের দোয়া পড়া শুরু করতেই দুজনের শরীরে অবস্থার পরিবর্তন হতে লাগল। মাথা কামড়ে ধরে আছে—বলল, যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে। সবিশেষ নিয়ম মেনে রুকইয়া শেষ করলে স্বাভাবিক হলো। বাসায় সেল্ফ রুকইয়াও দেয়া হলো।
এক মাস পর আপডেট জানান—তারা এখন সুস্থ। মাঝে কিছু ইফেক্ট হলেও এখন আর ঝগড়া হয় না। সুখের সেই সংসার আবারও ফিরে পেয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ। এসব সাকসেস হিস্টোরি অনেক থাকলেও প্রতিবার শুনে তৃপ্তি আসে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের মতো গোনাহগারদের পরামর্শ কবুল করে নিয়েছেন—এটুক মনে পড়লে সুকুনভরা হাসি ফুটে ওঠে মুখে।
ঘটনা থেকে শিক্ষা:
এমন অনেকে আছেন, একে অপরের উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে এই সমস্যাটাকে স্বাভাবিকভাবে নেন। আসলেই কি সুখের সংসারে হঠাৎ এমন অশান্তি স্বাভাবিক? মনে হয় না। আমরা অনেক রোগী দেখি, দীর্ঘদিন সাধারণ সমস্যা ভেবে ঝগড়ার শেষ মুহূর্তে লাইফ সাপোর্টের জন্য আসেন। রুকইয়া করলে বুঝতে পারেন—সমস্যা তো প্যারানরমাল, খুব ভালো পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তাই স্বামী-স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উচিত প্রথম থেকেই রুকইয়াহকে গুরুত্ব দেয়া। তবেই দ্রুত ইমপ্রুভমেন্ট ও সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা দেখা দেবে, ইনশাআল্লাহ।
— উস্তাজ ইবনে ইসহাক
(সিনিয়র রুকইয়াহ কনসাল্টেন্ট)